ড: আম্বেদকরের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাগ্রহণ
************
"আমরা শুধু রাজনৈতিক গণতন্ত্রে তৃপ্ত হতে চাইনা। আমাদের মনে রাখতে হবে যে, রাজনৈতিক গণতন্ত্র সমাজবাদী গণতন্ত্রের উপর নির্ভরশীল। সমাজবাদী গণতন্ত্র কি? সমাজবাদী গণতন্ত্র হোল সেই মতাদর্শ, যা স্বাধীনতা,সাম্য ও ভ্রাতৃত্বের নীতিকে স্বীকার করে"--ড: বি. আর. আম্বেদকর।
মহান মানুষেরা পৃথিবীতে মহান হয়েই জন্ম গ্রহণ করেন এবং নিজের মহত্বের প্রমাণ রাখেন তাঁদের অসাধারণ ব্যক্তিত্ব, মেধাগুণ ও কর্মকাণ্ডে। ১৮৯১-খৃষ্টাব্দের ১৪-ই এপ্রিল মধ্যপ্রদেশের 'মহু' নামক এক ছোট্ট শহরে জন্ম গ্রহণ করেন-ঠিক তেমনিই একজন মহামানব বাবাসাহেব ড: ভীমরাওজী আম্বেদকর। সীমাহীন গুণাবলীর অধিকারী ড: আম্বেদকর একাধারে ছিলেন একজন খাঁটি জাতীয়তাবাদী, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব,আইনজ্ঞ, সমাজবিপ্লবী, সমাজসংস্কারক; অন্যদিকে, একজন অসাধারণ পন্ডিত, যুক্তিবাদী দার্শনিক, চিন্তাবিদ, নৃতত্ত্ববিদ, ইতিহাসবিদ, অর্থনীতিবিদ, গবেষক, অসাধারণ বক্তা, অসাধারণ লেখক, সম্পাদক এবং নবযান বৌদ্ধধর্মের পুনর্জাগরণবাদী। ভারতীয় সংবিধানের জনক এবং আধুনিক ভারত গঠনের মুখ্য কারিগর বাবাসাহেব আম্বেদকর।
ড: আম্বেদকর ছিলেন মহারাষ্ট্রের রত্নগিরি জেলার আম্বাবাদে গ্রামের 'মাহার' নামক এক অস্পৃশ্য পরিবারের সন্তান। তাঁর পিতার নাম রামজী শকপাল এবং মায়ের নাম ভীমাবাই। তিনি ছিলেন তাঁর বাবা-মায়ের চতুর্দশতম সন্তান। তিনি একেবারে বাল্যকাল থেকেই অস্পৃশ্যতার দংশনে জর্জরিত হয়েছিলেন। রামজী শকপাল মহারাষ্ট্রের গুরগাঁও নামক একটি দূরবর্তী গ্রামে কর্মরত ছিলেন। তিনি যেহেতু হিসাবরক্ষক ছিলেন, সেই জন্য পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে পারতেন না। তাই, ছোট ছেলেদের গুরগাঁও-এ গিয়ে তাঁর সঙ্গে ছুটি কাটানোর জন্য চিঠি লিখলেন। এই প্রস্তাবে আনন্দিত বালক আম্বেদকর তাঁর দাদা এবং এক তুতো-ভাইকে নিয়ে গুরগাঁও-উপস্থিত হলেন তাঁর বাবার সঙ্গে দেখা করতে। কিন্তু অস্পৃশ্যতা যে কী বিষধর সাপের ছোবলের মতো, তা তাঁরা অতটুকু শৈশবে হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছিলেন। সবর্ণ গোষ্ঠীভুক্ত মানুষদের চরম অমানবিক ব্যবহার ও নির্যাতনের একেকটি ঘটনায় তাঁর যে তিক্ত অভিজ্ঞতার সঞ্চয় হয়েছিল, সেই অভিজ্ঞতা তাঁর জীবনীশক্তি বৃদ্ধি করেছিল।
বাবাসাহেবের শিক্ষাজীবন:--ড: আম্বেদকর ছিলেন অসাধারণ নেতা, লক্ষ্যে স্থির, প্রবল তেজ ও ইচ্ছা-শক্তিসম্পন্ন ব্যক্তিত্ব, দৃঢ়চেতা, সাহসী, কর্ম-ক্ষমতাসম্পন্ন, অসাধারণ-পাঠক, আত্মমর্যাদাসম্পন্ন, দক্ষ-কর্মী, দায়িত্বশীল, চতুর্পর্শী পান্ডিত্বের অধিকারী এবং সমাজকল্যানে ছিলেন- সেই শিক্ষার উপযুক্ত প্রয়োগকর্তা। বরোদার রাজা সয়াজী গায়কোয়াড়ের বদান্যতায় উচ্চশিক্ষার সুযোগ পেলেন বোম্বের এলফিন্টোন কলেজে পড়ার। মহারাজা তাঁর পড়াশোনা বাবদ মাসিক পঁচিশ টাকা অনুদান হিসেবে দিতে থাকলেন। তাঁর ব্যবহারযোগ্য পোশাক এবং পড়াশোনার জন্য যাবতীয় বইপত্রাদির বন্দোবস্ত করলেন অধ্যাপক মুলার। কিন্তু কলেজের অসম্মানজনক পরিবেশ থেকে তিনি মুক্তি পেলেন না। কলেজ-ক্যান্টিনের একজন ব্রাহ্মণ-পরিচালক তাঁকে জল, চা ইত্যাদি দিতে অস্বীকার করতো। ড: আম্বেদকর এই অপমান ও নিগ্রহ হাসিমুখেই মেনে নিতেন। তাঁর মনোযোগ ছিল পড়াশোনার ওপর এবং তিনি ইংরেজি ও পার্শীভাষা় নিয়েই ১৯১২-সালে বি.এ. পাশ করেন। তারপর ড: আম্বেদকরের সামনে সুযোগ এলো আমেরিকার কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষার জন্য। এব্যাপারে মহারাজা তাঁর পড়াশোনা বাবদ সমস্ত দায়ভার কাঁধে নিলেন। অস্পৃশ্য মাহার সম্প্রদায়ের তিনিই প্রথম শিক্ষানবীশ হিসাবে আমেরিকায় অধ্যয়নের সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৯১৫-সালে কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএ.এ. পাশ করলেন-"প্রাচীন ভারতের ব্যবসা-বানিজ্যের উপর গবেষণা করে। ১৯১৬-সালে প্রস্তুত করলেন-"ভারতের জাতিভেদ প্রথা,তার সৃষ্টির পদ্ধতি এবং ক্রমবিকাশ (Casteism in India, their Mechanism,Grnesis and Development) নামে একটি গবেষণাপত্র। ড: আম্বেদকর, অধ্যাপক Dr: Goldenweiser দ্বারা আয়োজিত "নৃতত্ত্ব-বিষয়ক "সেমিনারে সেই গবেষণাপত্রটি পাঠ করে শোনালেন। তাঁর এই গবেষণাপত্রটি ১৯১৭-সালের মে-মাসে ভারতীয় প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ থেকে প্রকাশ করা হয়।
১৯১৬-সালের জুন মাসে তাঁর পি.এইচ.ডি. ডিগ্রীর জন্য -"National Dividend for India, A historic and Analytical Study" নামে একটি গবেষণাপত্র জমা দেন। এরপর ১৯১৬-সালে আমেরিকা ছেড়ে ইংল্যান্ডের "লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিক্স ও পলিটিক্যাল সায়েন্স"-এ যোগ দেন। ওই বছরের অক্টোবর মাসে আইন পড়ার জন্য Gray's Inn-এ ভর্তি হন। পরে ভারতে ফিরে ১৯১৭-সালে বরোদার মহারাজার সেনাবিভাগের সচিব হয়ে যোগদান করেন। ১৯১৮-সালের নভেম্বর মাসে বোম্বাই-এর সিডেনহাম কলেজে রাজনৈতিক-অর্থবিদ্যার অধ্যাপক পদে নিযুক্ত হন এবং ১৯২০-সালের মার্চ মাসে পদত্যাগ করে আবার লন্ডনে ফিরে আসেন আইন ও অর্থনীতিতে পড়াশোনা চালু রাখতে। এরপর তিনি ১৯২০-সালের ৩১-জানুয়ারি ভারতের শোষিত শ্রেণীর মুখপত্র হিসেবে"মুকনায়ক" নামে একটি সাপ্তাহিক পত্রিকা চালু করেন। ১৯২০-সালের সেপ্টেম্বর মাসে তিনি আবার লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিক্স-এ ফিরে আসেন এবং Gray's Inn-ব্যারিষ্টারি পড়া শেষ করেন। ১৯২১-সালের জুন মাসে M.SC.ডিগ্রির জন্য বিশ্ববিদ্যালয় তাঁর লিখিত থিসিস "Provincial De-Centralization of Imperial Finance in British India" গ্রহণ করে।
১৯২৩-সালের মার্চ মাসে তিনি D.SC. ডিগ্রির জন্য-" The Problem of Rupees--It's Origin and It's Solution" নামক আর একটি থিসিস জমা করেন। এই থিসিসটি ১৯২৩-সালের ডিসেম্বর মাসে লন্ডন থেকে প্রকাশিত হয় P.S.King and Company দ্বারা। Professor Cannan এই পুস্তকটির মুখবন্ধ লিখেছিলেন। এরপর ১৯২৩-সালের এপ্রিল মাসে ড: আম্বেদকরকে আমন্ত্রণ জানানো হোল ব্যারিষ্টার সভার পক্ষ থেকে। তিনি লন্ডনে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের স্বরাষ্ট্রসচিব E.S.Montagw ও বিটলভাই প্যাটেলের সঙ্গে দেখা করেন ভারতীয় অস্পৃশ্যদের ক্ষোভের কথা জানাতে। ১৯৪২-সালের ৫-ই জুন আমেরিকার কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে নিউইয়র্ক শহরে সাম্মানিক L.L.D উপাধি দিয়ে সম্মানিত করে। হায়দরাবাদের ওসমানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ও ১৯৫৩-সালের ১২-জানুয়ারি ড: আম্বেদকরকে সর্বোচ্চ সম্মান ডি.লিট. উপাধিতে ভূষিত করে। পরিশেষে ১৯৯০-সালে তৎকালীন ভারত সরকার তাঁকে মরনোত্তর "ভারতরত্ন" সম্মানে ভূষিত করে।যোগ্যতম পন্ডিত বাবাসাহেবকে আমেরিকার কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ পন্ডিত বলে ঘোষণা করেছে। কানাডা সরকার তাঁর জন্মদিনটি বিশ্ব-একতা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। আর, রাষ্ট্রসংঘ প্রতিবছর ১৪-ই এপ্রিল ড: আম্বেদকরের জন্মদিনটি "বিশ্বজ্ঞানদিবস" হিসাবে পালনের জন্য বিধিবদ্ধ করেছে।
আজ ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য,লোভ,লালসা, ঈর্ষাপরায়ণতার ভয়াবহ আবহ থেকে মুক্তি পেতে, বাবাসাহেবের মানবতাবাদী মতাদর্শকে পাথেয় করে এগিয়ে চলার শপথ নিতে পারেন সবাই। গড়ে উঠুক 'সাম্য', 'স্বাধীনতা' আর 'মিত্রতার' সুসংবদ্ধ পরিবেশ!
জয় ভীম!
জয় ভারত!
সুদর্শন মণি
১৪/০৪/২০২০
************
"আমরা শুধু রাজনৈতিক গণতন্ত্রে তৃপ্ত হতে চাইনা। আমাদের মনে রাখতে হবে যে, রাজনৈতিক গণতন্ত্র সমাজবাদী গণতন্ত্রের উপর নির্ভরশীল। সমাজবাদী গণতন্ত্র কি? সমাজবাদী গণতন্ত্র হোল সেই মতাদর্শ, যা স্বাধীনতা,সাম্য ও ভ্রাতৃত্বের নীতিকে স্বীকার করে"--ড: বি. আর. আম্বেদকর।
মহান মানুষেরা পৃথিবীতে মহান হয়েই জন্ম গ্রহণ করেন এবং নিজের মহত্বের প্রমাণ রাখেন তাঁদের অসাধারণ ব্যক্তিত্ব, মেধাগুণ ও কর্মকাণ্ডে। ১৮৯১-খৃষ্টাব্দের ১৪-ই এপ্রিল মধ্যপ্রদেশের 'মহু' নামক এক ছোট্ট শহরে জন্ম গ্রহণ করেন-ঠিক তেমনিই একজন মহামানব বাবাসাহেব ড: ভীমরাওজী আম্বেদকর। সীমাহীন গুণাবলীর অধিকারী ড: আম্বেদকর একাধারে ছিলেন একজন খাঁটি জাতীয়তাবাদী, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব,আইনজ্ঞ, সমাজবিপ্লবী, সমাজসংস্কারক; অন্যদিকে, একজন অসাধারণ পন্ডিত, যুক্তিবাদী দার্শনিক, চিন্তাবিদ, নৃতত্ত্ববিদ, ইতিহাসবিদ, অর্থনীতিবিদ, গবেষক, অসাধারণ বক্তা, অসাধারণ লেখক, সম্পাদক এবং নবযান বৌদ্ধধর্মের পুনর্জাগরণবাদী। ভারতীয় সংবিধানের জনক এবং আধুনিক ভারত গঠনের মুখ্য কারিগর বাবাসাহেব আম্বেদকর।
ড: আম্বেদকর ছিলেন মহারাষ্ট্রের রত্নগিরি জেলার আম্বাবাদে গ্রামের 'মাহার' নামক এক অস্পৃশ্য পরিবারের সন্তান। তাঁর পিতার নাম রামজী শকপাল এবং মায়ের নাম ভীমাবাই। তিনি ছিলেন তাঁর বাবা-মায়ের চতুর্দশতম সন্তান। তিনি একেবারে বাল্যকাল থেকেই অস্পৃশ্যতার দংশনে জর্জরিত হয়েছিলেন। রামজী শকপাল মহারাষ্ট্রের গুরগাঁও নামক একটি দূরবর্তী গ্রামে কর্মরত ছিলেন। তিনি যেহেতু হিসাবরক্ষক ছিলেন, সেই জন্য পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে পারতেন না। তাই, ছোট ছেলেদের গুরগাঁও-এ গিয়ে তাঁর সঙ্গে ছুটি কাটানোর জন্য চিঠি লিখলেন। এই প্রস্তাবে আনন্দিত বালক আম্বেদকর তাঁর দাদা এবং এক তুতো-ভাইকে নিয়ে গুরগাঁও-উপস্থিত হলেন তাঁর বাবার সঙ্গে দেখা করতে। কিন্তু অস্পৃশ্যতা যে কী বিষধর সাপের ছোবলের মতো, তা তাঁরা অতটুকু শৈশবে হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছিলেন। সবর্ণ গোষ্ঠীভুক্ত মানুষদের চরম অমানবিক ব্যবহার ও নির্যাতনের একেকটি ঘটনায় তাঁর যে তিক্ত অভিজ্ঞতার সঞ্চয় হয়েছিল, সেই অভিজ্ঞতা তাঁর জীবনীশক্তি বৃদ্ধি করেছিল।
বাবাসাহেবের শিক্ষাজীবন:--ড: আম্বেদকর ছিলেন অসাধারণ নেতা, লক্ষ্যে স্থির, প্রবল তেজ ও ইচ্ছা-শক্তিসম্পন্ন ব্যক্তিত্ব, দৃঢ়চেতা, সাহসী, কর্ম-ক্ষমতাসম্পন্ন, অসাধারণ-পাঠক, আত্মমর্যাদাসম্পন্ন, দক্ষ-কর্মী, দায়িত্বশীল, চতুর্পর্শী পান্ডিত্বের অধিকারী এবং সমাজকল্যানে ছিলেন- সেই শিক্ষার উপযুক্ত প্রয়োগকর্তা। বরোদার রাজা সয়াজী গায়কোয়াড়ের বদান্যতায় উচ্চশিক্ষার সুযোগ পেলেন বোম্বের এলফিন্টোন কলেজে পড়ার। মহারাজা তাঁর পড়াশোনা বাবদ মাসিক পঁচিশ টাকা অনুদান হিসেবে দিতে থাকলেন। তাঁর ব্যবহারযোগ্য পোশাক এবং পড়াশোনার জন্য যাবতীয় বইপত্রাদির বন্দোবস্ত করলেন অধ্যাপক মুলার। কিন্তু কলেজের অসম্মানজনক পরিবেশ থেকে তিনি মুক্তি পেলেন না। কলেজ-ক্যান্টিনের একজন ব্রাহ্মণ-পরিচালক তাঁকে জল, চা ইত্যাদি দিতে অস্বীকার করতো। ড: আম্বেদকর এই অপমান ও নিগ্রহ হাসিমুখেই মেনে নিতেন। তাঁর মনোযোগ ছিল পড়াশোনার ওপর এবং তিনি ইংরেজি ও পার্শীভাষা় নিয়েই ১৯১২-সালে বি.এ. পাশ করেন। তারপর ড: আম্বেদকরের সামনে সুযোগ এলো আমেরিকার কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষার জন্য। এব্যাপারে মহারাজা তাঁর পড়াশোনা বাবদ সমস্ত দায়ভার কাঁধে নিলেন। অস্পৃশ্য মাহার সম্প্রদায়ের তিনিই প্রথম শিক্ষানবীশ হিসাবে আমেরিকায় অধ্যয়নের সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৯১৫-সালে কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএ.এ. পাশ করলেন-"প্রাচীন ভারতের ব্যবসা-বানিজ্যের উপর গবেষণা করে। ১৯১৬-সালে প্রস্তুত করলেন-"ভারতের জাতিভেদ প্রথা,তার সৃষ্টির পদ্ধতি এবং ক্রমবিকাশ (Casteism in India, their Mechanism,Grnesis and Development) নামে একটি গবেষণাপত্র। ড: আম্বেদকর, অধ্যাপক Dr: Goldenweiser দ্বারা আয়োজিত "নৃতত্ত্ব-বিষয়ক "সেমিনারে সেই গবেষণাপত্রটি পাঠ করে শোনালেন। তাঁর এই গবেষণাপত্রটি ১৯১৭-সালের মে-মাসে ভারতীয় প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ থেকে প্রকাশ করা হয়।
১৯১৬-সালের জুন মাসে তাঁর পি.এইচ.ডি. ডিগ্রীর জন্য -"National Dividend for India, A historic and Analytical Study" নামে একটি গবেষণাপত্র জমা দেন। এরপর ১৯১৬-সালে আমেরিকা ছেড়ে ইংল্যান্ডের "লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিক্স ও পলিটিক্যাল সায়েন্স"-এ যোগ দেন। ওই বছরের অক্টোবর মাসে আইন পড়ার জন্য Gray's Inn-এ ভর্তি হন। পরে ভারতে ফিরে ১৯১৭-সালে বরোদার মহারাজার সেনাবিভাগের সচিব হয়ে যোগদান করেন। ১৯১৮-সালের নভেম্বর মাসে বোম্বাই-এর সিডেনহাম কলেজে রাজনৈতিক-অর্থবিদ্যার অধ্যাপক পদে নিযুক্ত হন এবং ১৯২০-সালের মার্চ মাসে পদত্যাগ করে আবার লন্ডনে ফিরে আসেন আইন ও অর্থনীতিতে পড়াশোনা চালু রাখতে। এরপর তিনি ১৯২০-সালের ৩১-জানুয়ারি ভারতের শোষিত শ্রেণীর মুখপত্র হিসেবে"মুকনায়ক" নামে একটি সাপ্তাহিক পত্রিকা চালু করেন। ১৯২০-সালের সেপ্টেম্বর মাসে তিনি আবার লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিক্স-এ ফিরে আসেন এবং Gray's Inn-ব্যারিষ্টারি পড়া শেষ করেন। ১৯২১-সালের জুন মাসে M.SC.ডিগ্রির জন্য বিশ্ববিদ্যালয় তাঁর লিখিত থিসিস "Provincial De-Centralization of Imperial Finance in British India" গ্রহণ করে।
১৯২৩-সালের মার্চ মাসে তিনি D.SC. ডিগ্রির জন্য-" The Problem of Rupees--It's Origin and It's Solution" নামক আর একটি থিসিস জমা করেন। এই থিসিসটি ১৯২৩-সালের ডিসেম্বর মাসে লন্ডন থেকে প্রকাশিত হয় P.S.King and Company দ্বারা। Professor Cannan এই পুস্তকটির মুখবন্ধ লিখেছিলেন। এরপর ১৯২৩-সালের এপ্রিল মাসে ড: আম্বেদকরকে আমন্ত্রণ জানানো হোল ব্যারিষ্টার সভার পক্ষ থেকে। তিনি লন্ডনে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের স্বরাষ্ট্রসচিব E.S.Montagw ও বিটলভাই প্যাটেলের সঙ্গে দেখা করেন ভারতীয় অস্পৃশ্যদের ক্ষোভের কথা জানাতে। ১৯৪২-সালের ৫-ই জুন আমেরিকার কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে নিউইয়র্ক শহরে সাম্মানিক L.L.D উপাধি দিয়ে সম্মানিত করে। হায়দরাবাদের ওসমানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ও ১৯৫৩-সালের ১২-জানুয়ারি ড: আম্বেদকরকে সর্বোচ্চ সম্মান ডি.লিট. উপাধিতে ভূষিত করে। পরিশেষে ১৯৯০-সালে তৎকালীন ভারত সরকার তাঁকে মরনোত্তর "ভারতরত্ন" সম্মানে ভূষিত করে।যোগ্যতম পন্ডিত বাবাসাহেবকে আমেরিকার কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ পন্ডিত বলে ঘোষণা করেছে। কানাডা সরকার তাঁর জন্মদিনটি বিশ্ব-একতা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। আর, রাষ্ট্রসংঘ প্রতিবছর ১৪-ই এপ্রিল ড: আম্বেদকরের জন্মদিনটি "বিশ্বজ্ঞানদিবস" হিসাবে পালনের জন্য বিধিবদ্ধ করেছে।
আজ ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য,লোভ,লালসা, ঈর্ষাপরায়ণতার ভয়াবহ আবহ থেকে মুক্তি পেতে, বাবাসাহেবের মানবতাবাদী মতাদর্শকে পাথেয় করে এগিয়ে চলার শপথ নিতে পারেন সবাই। গড়ে উঠুক 'সাম্য', 'স্বাধীনতা' আর 'মিত্রতার' সুসংবদ্ধ পরিবেশ!
জয় ভীম!
জয় ভারত!
সুদর্শন মণি
১৪/০৪/২০২০
No comments:
Post a Comment